স্টিভ জবসকে বলা হয় আধুনিক প্রযুক্তির পথ প্রদর্শক। তিনি আমাদের শিখেয়েছেন কিভাবে সকল বাঁধা অতিক্রম করে সফল হওয়া যায়। ঠিক সে রকমই কিছু নীতি মেনে তিনি নিজে সফল হয়েছেন।আর বিভিন্ন কনফারেন্সে স্টিভ জবস সেই জিনিসগুলোই সফল হওয়ার জন্য মেনে চলতে বলতেন।
স্টিভ জবসের ১০ নীতি
১) আজকে ভবিষ্যৎ দেখুনঃ
ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা সবার থাকে না। কিন্তু যদি আপনি আপনার কাজের ভবিষ্যৎ আজকে দেখতে পান এবং সেইভাবে আগাতে পারেন তাহলে আপনি সফল নিচ্চিত বলা যায়।স্টিভ জবস টাচ ফোনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন এবং তিনি জানতেন এটা একদিন বাজার দখল করবে। আর সেইভাবেই তিনি নিজেকে গড়েছিলেন। ফল কি তিনি সফল।
আর তিনি খুব বেশি দূর ভবিষ্যৎ দেখতেন, যেটা তাঁকে অনেক দূর এগিয়ে দেয়।
২) পজিটিভ হয়ে উঠুনঃ
অন্যান্য আর ১০ টা যুবকের মতো স্টিভ জবসও কৈশোরে বখাটে ছেলেদের সংঘ ছাড়তে পারেন নি। কিন্তু ঠিকই বুঝতে শেখার সাথে সাথে তিনি সেগুলো অতিক্রম করে নেন। আর বিশ্বের সব থেকে লেটেস্ট জিনিস তথ্য প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হন। যেটা তাঁকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেয়। সেহেতু আপনাকে নেগেটিভ চিন্তা থেকে বের হয়ে পজিটিভ চিন্তা করতেই হবে, সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য।৩) ব্যর্থতা মানে পথের শেষ নয় শুরুঃ
ব্যর্থতা মানে পথের শেষ নয়, পথের শুরু মাত্র। আপনি সফল হবেন কিন্তু ব্যর্থতা মেনে নিবেন না তাহলে আপনার দ্বারা সফলতাও সম্ভব নয়। আপনাকে ব্যর্থ হয়েও নতুন করে শুরু করতে হবে। স্টিভ জবস তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন তিনি কতো বার অ্যাপেলে ব্যর্থ হতে হতে সফল হওয়ার দ্বারে পৌঁছালেন। সেহতু ব্যর্থতাঁকে আলিঙ্গন করতে শিখুন এবং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যান।৪) বিশ্ব ভ্রমন করুনঃ
যে বছরে স্টিভ জবস অ্যাপেল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁর আগে তিনি ভারত ভ্রমন করেছিলেন। একজনের চিন্তা শক্তির বিকাশে এবং সঠিক উদ্দেশ্য খুজে পেতে আপনার ভ্রমন করা উচিত। যেটা একজন উদ্যোক্তার খুব বেশি প্রয়োজন।ভ্রমণ করতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। আপনি আপনার পার্শ্ববর্তী দেশ বা শহর ভ্রমণ করতে পারেন যা আপনার চিন্তা শক্তি বাড়াতে এবং ভবিষ্যৎ দেখতে খুব সহযোগিতা করবে।
৫) সঠিক পার্টনার খুজে বের করুনঃ
স্টিভ জবস একাকি অ্যাপেল গড়ে তুলেননি। তাঁর সাথে তাঁর শ্রেষ্ঠ বিজনেস পার্টনার Steve Wozniak ছিলেন। যিনি তাঁর মতো চিন্তার অধিকারি ছিলেন এবং দক্ষও ছিলেন।সেহেতু আপনাকে এই সঠিক ব্যক্তিকে খুজে নিতে হবে। যে আপনার কাজের উপযোগী হবে এবং তাঁর সাথে আপনার মতাদর্শও যাবে।
৬) বাঁধা যে সুযোগ সেটা বুঝতে শিখুনঃ
সফলতার পথে বাঁধা আসবেই কিন্তু সেটা যে আপনাকে আরও বেশি সুযোগ দিতে পারে সেটা বুঝতে হবে। অ্যাপেল কম্পিউটার গড়ার সময় স্টিভ জবস এবং Steve Wozniak এর ঠিক সেই রকমই কিছু বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো, কিন্তু তিনি তা আশীর্বাদ হিসেবে নিয়েছিলেন। তাঁর অনেক কিছু হারাতেও হয়েছিলো সেজন্য, কিন্তু তিনি সেটাকে ঠিকই সুযোগে রূপান্তর করেন।৭) রিস্ক নিনঃ
স্টিভ জবস তাঁর নতুন প্রডাক্ট প্রসারের জন্য অনেক রিস্ক নিয়েছিলেন। তিনি আইফোন বের করার সময় অনেকে নিষেধ করছিলেন, আইপডের ভবিষ্যৎ ভেবে, কিন্তু তিনি রিস্ক নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। এবং তাতে তিনি সফলও হন।এজন্য আপনাকেও রিস্ক নিতে হবে সমান তালে, না হলে নতুন উদ্ভাবনিতে পিছিয়ে যাবেন।
৮) সফল মানুষদের সাথে থাকুনঃ
স্টিভ জবস যে শুধু Steve Wozniak কে নিয়ে কাজ করতেন তা নয়। তিনি আরও অনেক সফল মানুষদের সাথে উঠা বসা করতেন সমান ভাবে। যেমন পিক্সার সিইও টিম কুক। ফলে তিনি সফল হতে আরও একটু সহযোগিতা পেতেন, করতেনও।আপনার চারপাশ যদি সফল মানুষের আনাগুনা বেশি থাকে তাহলে আপনি ভবিষ্যৎ দেখতে সুবিধা পাবেন আর অনেক বেশি আত্ম প্রত্যয়ী এবং কৌশলী হবেন। সেহেতু সফল মানুষদের সাথে থাকুন যতো পারবেন।
৯) মনে রাখবেন আপনি খুব দ্রুত মারা যাবেনঃ
আমরা মানুষ হিসেবে সারা জীবন বেঁচে থাকবো না এটা স্বাভাবিক। সেহেতু আপনি যদি কিছু করতে চান তাহলে সেটা এখনি এবং এই সময়ই করতে হবে, না হলে হয়তো আপনি সেটা করার আদৌ সময় পাবেন না।আপনার যখনি হতাশা বা পীড়া আসবে তখনই ভাববেন। যেটা আপনাকে এগিয়ে নিতে সুবিধা দিবে।
১০) অন্যের কাছ থেকে শিখতে লজ্জা পাবেন নাঃ
আপনি সফল হতে শেখার শেষ নেই। আপনি অন্যের কাছ থেকে যত পারেন নতুন কিছু ধারণা শিখতে থাকুন, তাহলে আপনাকেও সেটা সফল হতে সাহায্য করবে।স্টিভ জবস যখন ছাত্র তখন তিনি কম্পিউটার প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্লাসে যুক্ত থাকতেন। তিনি ২০ বছর বয়েসের আগে বিভিন্ন কোম্পানি যেমন এইচপিতেও তিনি কাজ করেছেন শেখার জন্য।
এটা আপানাকে আপনার কাজে সফল হতে সহযোগিতা করবে। আর আপনি বিভিন্ন প্রডাক্টিভ চিন্তাও করতে পারবেন।
- স্টিভ জবস

